জানা অজানা

স্কুল থেকে ফিরলে যেসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন শিশুদের, একজন সচেতন মায়ের অবশ্যই জানা উচিৎ

স্কুল থেকে ফিরলে- স্কুল শেষে শিশুটি বাসায় ফিরলে বেশির ভাগ সময়ই হয়তো মা-বাবা জানতে চান না শিশুটি সারাদিন কী করেছে। আর জিজ্ঞেস করলেও হয়তো এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। শিশুটিও হয়তো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর মধ্যে উত্তর শেষ করে দেয়।

তবে শিশুর মানসিক বিকাশ ভালোভাবে হওয়ার জন্য কিন্তু এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা প্রয়োজন। এতে স্কুল বা লেখাপড়া সম্পর্কে কোনো ভীতি নিয়ে সে মা-বাবার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে পারে।

স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুকে জিজ্ঞেস করতে পারেন এমন কিছু প্রশ্নের তালিকা দিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা।

১. স্কুলের কোন জায়গাটি খুব ভালো লাগে তোমার?

২. আজকে সবচেয়ে মজার কী ঘটেছে?

৩. আজকে কি কেউ তোমাকে সাহায্য করেছে?

৪. ক্লাসে আজ কে তোমার পাশে বসেছিল? তার সঙ্গে বসতে তোমার ভালো লেগেছে?

৫. কোন বিষয়টি আজ তোমাকে খুব হাসিয়েছে?

৬. কোন বিষয়টি খুব বিরক্তিকর ছিল আজ?

৭. টিফিনের বিরতিতে কার সঙ্গে খেলা করেছ?

৮. ক্লাসের সবচেয়ে মজার মানুষটি কে?

৯. ক্লাসের সবচেয়ে রাগী তোমার কাকে মনে হয়?

১০. শিক্ষকের সঙ্গে আজ কী করেছ?

১১. কোন শব্দটি শিক্ষক আজ বেশি উচ্চারণ করেছেন?

১২. আজকে কেউ কি ক্লাসে কেঁদেছিল?

১৩. শিক্ষক কি এমন কিছু শিখিয়েছে, যা তুমি একেবারেই বুঝতে পারনি?

১৪. স্কুলের কোন নিয়মটি তোমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়?

১৫. তোমার কোন বিষয়টি শিক্ষকের আজ ভালো লেগেছে?

১৬. তোমার কোন বিষয়টিতে শিক্ষক বিরক্ত হয়েছেন?

১৭. আজ কি নতুন কোনো শব্দ শিখেছ?

১৮. পাঠদানের কোন বিষয়টি তোমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে?

১৯. তুমি কি স্কুলের ওয়াশরুম ব্যবহার করেছ? সেখানে যেতে কি তুমি নিরাপদ বোধ করেছ?

নিজের আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চান বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী মিতু

জন্মের পর থেকেই কথা বলতে পারেনা। এমনকি সে কানেও শুনতে পায়না। কখনও তার শেখা হয়নি অংকন শিক্ষা। দেখে বোঝার উপায় নেই শুধু মাত্র চোখের দেখায় প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণীজনের ছবি। যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া নিবির পল্লীর দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিনী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু রানী দাস (১৬)। চলতি বছরে সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করছে।

কানে শোনা ও কথা বলতে না পারা কিশোরী মিতু পড়াশুনাতেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। গরীব বাবার ছোট সন্তান মিতুর ভাগ্যে জোটেনি একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড। তার ভীষন ইচ্ছে নিজের আঁকা ছবিগুলো প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর।

সরেজমিন মিতুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা কুটিশ^র দাস কর্মের তাগিদে বাইরে গেছেন। বাড়িতে মাকে রান্নার কাজে সহায়তা করছেন মিতু। পাশে উঠোনে ছড়ানো ছিটানো আর্ট পেপারে আঁকা ছবি পরে আছে। বাড়িতে যেতেই কথা বলার প্রবল আকুতি নিয়ে এগিয়ে আসে মিতু ও তার মা। মিতুর আকার ইঙ্গিতে কিছু বোঝানোর ক্ষমতা বা দক্ষতা সাধারণ অন্য মেয়েদের চেয়ে প্রবল।

তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ছবি দেখে নিজে নিজেই আঁকা শেখে মিতু। সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা। তবে মিতুর একটি ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বাবা-মা ধর্ণা দিয়েছেন বহুবার। তবে মেলেনি কোন সহযোগিতা।

চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাশ করার পর বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত কুটিশ্বর দাস শত কষ্টের মাঝে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মা সুমিত্রা রানী দাস আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন,‘বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় খুব ভেঙ্গে পড়েছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর তাকে (মিতু) স্কুলে ভর্তি করে দেই। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মিতু ছবি দেখে হুবহু আঁকতে শুরু করে। ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাশ করলে আর পড়াবো না।

কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের ভাতার কার্ডের জন্য বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানকে বলেছি। সমাজ সেবা অফিসেও গিয়েছি। কিন্তু কোথাও সহযোগিতা পাইনি।’

তবে আমার মেয়ে মিতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এঁকে উনাকে দেখানোর জন্য আকার ইঙ্গিতে ইচ্ছে পোষন করে। আমি তার ইচ্ছের বিষয়টি কাউকেই কখনও বলিনি, এই প্রথম তোমাকে (প্রতিবেদক) বললাম। জানি এ স্বপ্ন কখনও বাস্তব হবার নয়।

চাটমোহর শিল্পকলা একাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক দাস বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আঁকানো চিত্রকর্ম দেখে আশ্চর্য হয়েছি। এটা ঈশ্বর প্রদত্ত ব্যাপার। না শিখেই মিতুর মধ্যে যে প্রতিভা আছে এরআগে কোথাও দেখিনি। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেকদূর পৌঁছাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার মিতুর ব্যাপারে বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর চিত্রকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি, মিতুর সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন থেকে নেওয়া হবে।’

Author Since: May 24, 2018